মাহমুদুল হক বাবুল, উখিয়া:
কক্সবাজারের উখিয়ায় ৩ সন্তানের জননীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে গিয়ে ধর্ষক গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার রাত ১১ টার দিকে।
জানা যায়, উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের পূর্ব ডিগলিয়াপালংয়ের মোরাপাড়া এলাকার মৃত ইউসুফ আলী পুত্র আব্দুল গফুরের স্ত্রী রেনুয়ারা বেগম (২২) কে একই এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অসংখ্য নারী ধর্ষক নামে খ্যাত ছৈয়দ নূরের লম্পট ছেলে নূরুল ইসলাম (২২) দীর্ঘদিন ধরে এলাকার হতদরিদ্র আব্দুল গফুরের স্ত্রী রেনুয়ারা বেগমকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। নূরুল ইসলামের এ অনৈতিক প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় মঙ্গলবার গভীর রাতে রেনুয়ারা বেগমের স্বামী বাড়ি না থাকার সুবাদে লম্পট নূরুল ইসলাম বাড়ির দরজা ভেঙ্গে ফিল্ম স্টাইলে ঘরে প্রবেশ করে রেনুয়ারা বেগমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধর্ষিতার শোরচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে ধর্ষককে গণধোলাই দিয়ে ছেড়ে দেয়। লম্পটের গণধোলাইয়ের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ওই লম্পটের ছোট বোন বঙ্গমাতা মহিলা কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রী সাফা আক্তার (১৮) তার ভাইকে কেন গণধোলাই দেওয়া হয়েছে মর্মে প্রতিবাদ করতে গেলে ধর্ষিতা রেনুয়ারা বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে দা দিয়ে কুপিয়ে লম্পটের বোন সাফাকে গুরুতর জখম করে মাটিতে ফেলে দেয়। এসময় স্থানীয় এলাকাবাসীরা ধর্ষিতার কবল থেকে কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধার করে উখিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক সাংবাদিকদেরকে বলেন, আহত কলেজ ছাত্রীর শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে এবং চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এব্যাপারে ধর্ষকের পিতা ছৈয়দ নূরের কাছ থেকে জানাতে চাইলে তার লম্পট ছেলে নূরুল ইসলামের ধর্ষণের কথা স্বীকার করে বলেন, আমার লম্পট ছেলের ধর্ষণের শাস্তি দাবী করছি। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করে বলেন, এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও নারী ধর্ষণকারী লম্পট নূরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে রেনুয়ারা বেগমকে উত্তপ্ত করে আসছিল। শুধু তাই নয়, এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা পড়–য়া ছাত্রীরাও লম্পট নূরুল ইসলামের কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না বলে এলাকাবাসীরা জানান। এব্যাপারে ধর্ষিতা রেনুয়ারা বেগমের স্বামী আব্দুল গফুর বাদী হয়ে ধর্ষকের বিরুদ্ধে থানা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে তিনি জানান।
এব্যাপারে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আলী হোছন খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এ লম্পট ছেলেটা এ ধরণের অনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে অচিরে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার নেওয়ার জন্য জেলা পুলিশ সুপার ও উখিয়া থানার ওসির হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
পাঠকের মতামত